ইউরোভিশন ডেস্ক :হাদী কোনো একক ব্যক্তি নয়—হাদী আজ একটি প্রতীক।
যেদিন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলো, সেদিন আসলে একটি শরীর নয়, ক্ষতবিক্ষত করা হলো বাংলাদেশের বিবেককে।
এই গুলি কোনো হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা অসহিষ্ণুতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধের সংস্কৃতি এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। হাদীর শরীরে গুলি ঢোকেনি কেবল—গুলি ঢুকেছে একটি রাষ্ট্রের গণতন্ত্রে, ন্যায়বিচারে এবং মানুষের নিরাপত্তার বিশ্বাসে।
একটি দেশের নাগরিক যখন মত প্রকাশের কারণে, প্রতিবাদের কারণে কিংবা সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণে গুলিবিদ্ধ হয়, তখন সেই দেশের ভবিষ্যৎও রক্তাক্ত হয়। হাদীর রক্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আজ যদি একজন কথা বলার জন্য গুলিবিদ্ধ হয়, কাল সেই নীরবতা আমাদের সবার গলায় চেপে বসতে পারে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই ধরনের ঘটনার পর আমাদের অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। কিছু শিরোনাম, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট, আর তারপর সব ভুলে যাওয়া। কিন্তু রাষ্ট্রের বুকে গুলি লাগলে তা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ রাষ্ট্র মানে শুধু ভূখণ্ড নয়—রাষ্ট্র মানে মানুষ, তাদের অধিকার, তাদের নিরাপত্তা।
হাদীর ওপর চালানো সহিংসতা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—আমরা কোন পথে হাঁটছি? যে দেশে সত্য বলার মূল্য যদি জীবন দিয়ে দিতে হয়, সেই দেশ কি আদৌ নিরাপদ?
আজ হাদীর পাশে দাঁড়ানো মানে কেবল একজন আহত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়। এর মানে হলো—ভয়কে অস্বীকার করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা।
হাদীকে গুলি করা হয়নি।
গুলি করা হয়েছে বাংলাদেশের বুকে।
এবং সেই ক্ষত সারাতে হলে আমাদের সবাইকে একসাথে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে হবে—এটাই আজ সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।