১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাত ২:৪৬
১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রাত ২:৪৬

ভূমধ্যসাগরে মারা গেছে দিরাই’র আরও ২ যুবক।

Share Option;

ইমরান হোসাইন দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) :- লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আরও দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের একজনের নাম আব্দুল্লাহ (২২)। সে জগদল ইউপির রাজনগর (হালেয়া) গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে। অপরজনের নাম তায়েফ মিয়া( ২৫)। সে করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী ৬ জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আগের দিন তারাপাশা গ্রামের ৩ জন ও চরনারচর গ্রামের ১ জনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এ চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করেছেন। গত শনিবার বিকেলে পরিবারের লোকজন যে চারজনের মৃত্যুর খবরটি জানতে পারেন,তারা হলেন-দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো. নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) এবং একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচেট আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

রোববার বিকেল ৩ টায় সরেজমিন তারাপাশা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুরো গ্রাম সহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মারা যাওয়া যুবকদের সাথে থেকে ভাগ্যক্রমে জীবিত থাকা তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদ (২৫)এর বাড়িতে পৌছুতেই দেখা যায় গ্রীসের একটি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে ভিডিও কলে পিতা আব্দুল কাহারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিল সে । তখন এ প্রতিবেদকের সাথেও অল্প সময় ভিডিও কলে কথা বলে রোহান।সে জানিয়েছেন, বোটে খাবার ও পানির সংকটে তারা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপায়ান্তুর না পেয়ে বাচার তাগিদে শেষ দিকে অতিরিক্ত লবনাক্ত পানি পান করায় সবাই অসুস্থ্য হয়ে অনেকেই মারা গেছেন। তাদের গ্রামের তিন জনসহ মোট ৬ জন মারা যাওায়ার বিষয়টিও এ প্রতিবেদককে রোহান আহমেদ নিশ্চিত করেছে। রোহান জানায় কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।তার গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। ভাল ভাল খাবার দেয়া হয়েছে কিন্তু লবন পানি পান করায় গলা ঘাঁ হয়ে গেছে। কোন খাবারই খেতে পারে না। গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য শাহনূর মিয়া বলেন, রোহান আহমেদ ফোনে গ্রামের যুবকদের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছেন। রাবারের বোটে করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেওয়া হয়। এ ধরনের বোটকে লোকজন গেম বলে। গেমেই তাঁরা মারা গেছেন। সাহান মিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন। গত মাসে তাঁরা বাড়ি থেকে রওনা দেন। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাঁদের কোনো খোঁজ ছিল না। শনিবার বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছেন। এদিকে সাগরপথে গ্রীস যাওয়ার সময় মারা যাওয়া শোক সন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার, দিরাই থানা অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী,দিরাই উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আল আমিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক চৌধুরী বলেন ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে ।


Share Option;

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *